ডেস্ক রিপোর্ট :
বিএনপি ক্ষমতা গেলে দেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণার শেষে দিনে গতকাল সোমবার ঢাকা-৮ আসনে পীরজঙ্গি মাজার সড়কে এক জনসভায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে, এই সমস্যা শুধু ঢাকা নয়, সমগ্র বাংলাদেশে। এজন্য বিএনপি এই ব্যাপারে কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ইনশাল্লাহ এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব। আমরা দেশে বিনিয়োগকারীদেরকে উৎসাহিত করবো, বিদেশ থেকে বিনিয়োগকারীদেরকে আমরা আমন্ত্রণ জানাবো, দেশে মিল-কারখানা তৈরির মাধ্যমে যেমন আমরা বেকার সমস্যার সমাধান করব।
তিনি বলেন, ঢাকাসহ সর্বত্রই ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং আইটি সংক্রান্ত বিভিন্ন ইনস্টিটিউট আমরা তৈরি করব, সেখানে আমাদের তরুণ সমাজের ছেলে হোক, মেয়ে হোক তাদেরকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে ধীরে ধীরে গড়ে তুলবো। এরফলে তারা দেশেই নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করে নিবে পারবে, নিজেদের বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবে। একই সাথে তারা বিদেশেও যেতে পারবে। যারা বিদেশে যাবেন.. আমরা দেখেছি আমাদের প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বিদেশে আছেন। এর মধ্যে অনেক মানুষ বিদেশ যাবার আগে অর্থ সংকটের জন্য তারা নিজেদের বাপ-দাদার জমি বিক্রি করতে হয়।
কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, ইনশাআল্লাহ আগামীতে যারা দক্ষ হয়ে বিদেশে যাবে, সেইসব তরুণ-যুবকদের মধ্যে যারা অর্থ সংকটের কারণে যেতে পারছে না তাদেরকে আমরা জমি বিক্রি করতে দেবো না। তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করে দেবো। সেই টাকা সে ধীরে ধীরে ওখানে কর্মসংস্থান করে পরিশোধ করবে। কিন্তু যাতে বাপ-দাদার জমি যাতে বিক্রি করতে না হয় আমরা সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। একই সঙ্গে বিএনপি নির্বাচিত হলে এক লাখ স্বাস্থ কর্মী নিয়োগ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার কথাও বলেন তিনি। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য সেবা, ইমাম-মোয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানি ভাতা প্রবর্তন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার বিষয়ে দলের পরিকল্পনাও তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমি আমার বক্তব্যে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরলাম। ১২ তারিখে আপনাদের পরিকল্পনা কী আমি জানতে চাই?
বিএনপি নির্বাচিত হলে ঢাকা-৮ আসনে খেলা মাঠ নির্মাণ, কবরাস্থানের জন্য জায়গা প্রদান, পানিবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। পরে মির্জা আব্বাসের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তাকে নির্বাচিত করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে বনানীর কামাল আতাতুর্ক মাঠে জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরপর তিনি ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবির নির্বাচনি এলাকায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখার পর আসেন ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের আসনে। এরপর পর্যায়ক্রমে ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশীদ হাবিবের আসনে বাসাবো তরুন সংঘ মাঠে, ঢাকা-৫ আসনে নবী উল্লাহ নবীর যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে, ঢাকা-৪ আসনে তানভীর আহমেদ রবিনের জুরাইন দয়াগঞ্জ রোডে, ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেনের ধূপখোলা মাঠে এবং ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান হামিদের লালবাগ বালুর মাঠের পথসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
মন্তব্য করুন