শমসুল আলম শারেক,নিজস্ব প্রতিবেদক:
টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ এক তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আহত শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
আহত শিশুটির নাম হুজাইফা আফনান। সে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যাং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন গুলি মেয়েটির মুখ দিয়ে ঢুকে ব্রেনে প্রবেশ করেছে। তার পরিবার জানায়, সীমান্তবর্তী হোয়াইক্যাং এলাকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ছোড়া গুলিতে সে আহত হয়।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন দৈনিক নতুন বাংলা কে বলেন, গুলিটি মেয়েটির মুখ দিয়ে ঢুকে ব্রেনে চলে গেছে। তাই তার অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।আল্লাহ চাইলে ভাল করে দিতে পারে। হুজাইফার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য দখলে নেয়া আরকান আর্মির(এ.এ) সাথে টানা ৪ দিনের সংঘর্ষে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
গতকাল দিবাগত রাত থেকে ভোর পর্যন্ত দুপক্ষের ব্যাপক গুলি বিনিময়ে সীমান্ত এলাকা কেঁপে ওঠে।
১১ জানুয়ারি ভোর ৬ টা পর্যন্ত গুলি বিনিময় চলছিল। ভোর সকালে আরকান আর্মি রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের নিশানা করে কয়েকটি ড্রোন হামলা চালায়। এতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা পিছু হটলে আরকান আর্মি তাদের তাড়া করে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের দিকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় এতে হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯) গুলিবিদ্ধ হয়। মুমুর্ষাবস্থায় প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ,পরে আশংকা জনক অবস্থায় চমেকে প্রেরণ করা হয়। 
এদিকে সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা যায়, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ৫৩ জন সদস্য পালিয়ে আসার সময় বিজিবি,পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তন্মধ্যে ৩-৪ জন গুলিবিদ্ধ রয়েছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃংখলা বাহিনীর বিপুল পরিমান সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রয়েছে। সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছে বিক্ষুব্দ জনতা।

মন্তব্য করুন