নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়ার ৩য় দিনের কর্মসূচিতে দেশব্যাপী ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা; সফল কর্মসূচিতে আনুমানিক ৩ হাজার মানুষের সংহতি
প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
“নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়া”র তৃতীয় দিনের কর্মসূচিতে টেকনাফ, উখিয়া, রামু, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাঙ্গামাটি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত টেকনাফের শিক্ষার্থী, তরুণ, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।
আজকের কর্মসূচিতে টেকনাফ, উখিয়া, রামু ও কক্সবাজারের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলেজ, দাখিল মাদ্রাসা, আলিম মাদ্রাসা, নুরানি মাদ্রাসা, হিফজখানা, কওমি মাদ্রাসা, কুরআনিক একাডেমিসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা সংহতি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, ঢাকা, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত টেকনাফের শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, ছাত্র, স্বেচ্ছাসেবী, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠন, অফিস, লাইব্রেরি, বাজার, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম এবং বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত প্রায় ৫৬ জন ব্যক্তি নিজ নিজ অবস্থান থেকে ছবি ও সংহতির বার্তা পাঠিয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।
আন্দোলনের প্রতিনিধিদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন, সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ মিলিয়ে আজকের তৃতীয় দিনের কর্মসূচিতে আনুমানিক ৩,০০০ (তিন হাজার) মানুষ প্রত্যক্ষ ও অনলাইনের মাধ্যমে একযোগে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং টেকনাফ–উখিয়ার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপহরণ, মানবপাচার, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ জনপদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি সর্বজনীন নাগরিক উদ্যোগ।
জনসম্পৃক্ততার জন্য কৃতজ্ঞতা
আন্দোলনের প্রতিনিধিগণ আজকের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ছাত্র, স্বেচ্ছাসেবী, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রতিনিধিরা বলেন, জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা প্রমাণ করেছে যে টেকনাফ–উখিয়ার নিরাপত্তার প্রশ্নে আজ সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ।
আগামীকালের কর্মসূচি
২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য সকলকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল ছবি কালো (Black Profile) রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে টেকনাফ–উখিয়ার নিরাপত্তা সংকট, অপহরণ, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে টেকনাফ–উখিয়াকেন্দ্রিক সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ছাত্র, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতি নিরাপদ সীমান্ত ও জননিরাপত্তার দাবির পক্ষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান, কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনের প্রতিনিধিরা।
প্রচার ও প্রকাশনায়
নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়া।
মন্তব্য করুন