উনছিপ্রাং মুহিউচছুন্নাহ মাদরাসায় “হোয়াইক্যং ইউনিয়ন কওমী মাদরাসা ঐক্য পরিষদ কর্তৃক” আয়োজিত কোরবানির মাসায়েল বিষয়ক বিতর্ক অনুষ্ঠান সম্পন্ন
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন কওমী মাদরাসা ঐক্য পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত “কোরবানী মাসায়েল বিষয়ক বিতর্ক অনুষ্ঠান” হোয়াইইক্যং ইউনিয়নের কিতাব বিভাগ বিশিষ্ট ছয়টি মাদরাসার ৩২ জন প্রতিযোগীসহ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক ও জনসাধারনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বুধবার (২০ মে ২০২৬ইং) উনছিপ্রাং মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসা মসজিদ প্রাঙ্গনে সম্পন্ন হয়েছে। আলহামদু লিল্লাহ
অংশগ্রহণ করা মাদরাসা সমূহ যথাক্রমে:
মনিরঘোনা আজিজুল উলুম মাদরাসা, উনচিপ্রাং দারুল ইরফান মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসা,লম্বাবিল এমদাদিয়া তাহফীজুল কোরআন মাদরাসা,নয়াপাড়া দক্ষিণ মাথা সিরাজুল উলুম মাদরাসা, ইমাম বুখারী মাদরাসা কানজরপাড়া
উনছিপ্রাং মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসা।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন কওমী মাদরাসা ঐক্য পরিষদ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ সাজেদ আল-হাবীব এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও পরিষদের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফেজ আব্দুল্লাহর পরিচালনায় বিতর্ক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
এতে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়ন কওমী মাদরাসা ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা হযরত মাওলানা মুফতী আলতাফ হোসাইন সাহেব, বিচারক প্যানেলে ছিলেন, মুফতী মোহাম্মদ হোসাইন, খতীব মনখালী ষ্টেশন জামে মসজিদ বাহারছড়া, মুফতী নুর হাসান, শিক্ষক, শামলাপুর দারুল উলুম মাদরাসা।
আরো উপস্থিত ছিলেন উনছিপ্রাং দারুল ইরফান মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসার পরিচালক মাওলানা শামসুল আলম, উনছিপ্রাং মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসার পরিচালক মাওলানা তাহের গাজীসহ পরিষদের দায়িত্বশীলবৃন্দ ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কওমী মাদরাসাসমূহের জিম্মাদার হযরাতগণ।
অনুষ্ঠানে কোরবানির ফজিলত, শরিয়তসম্মত নিয়ম-কানুন, পশু নির্বাচনের সঠিক পদ্ধতি, কোরবানির নির্ধারিত সময়, অংশীদারিত্বের বিধান, মাংস বণ্টনের নিয়ম, কোরবানির পশুর ত্রুটি এবং সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও যুক্তিভিত্তিক বিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
এতে স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, হাফেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা কোরবানির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কোরবানি শুধুমাত্র পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং ত্যাগের অনন্য শিক্ষা।
বক্তারা আরও বলেন, অনেক সময় সঠিক মাসায়েল সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে মানুষ অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল করে থাকে। তাই কোরবানিকে শরিয়তসম্মত ও সহিহভাবে আদায় করতে হলে ইসলামী বিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের শিক্ষামূলক আয়োজন সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্বীনি জ্ঞান প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা কোরবানির বিভিন্ন মাসায়েল নিয়ে তথ্যবহুল বক্তব্য ও দলীয় বিতর্ক উপস্থাপন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ধর্মীয় আবহ, প্রাণবন্ত আলোচনা ও জ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।
শেষে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোআ ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
এসময় উপস্থিত মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত ইসলামী শিক্ষামূলক আলোচনা, বিতর্ক ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন