“হোয়াইক্যং সীমান্তে করিডর স্থাপনের দাবী”
বৈধ পথে চিংড়ি আমদানির পথ উম্মুক্ত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা
মুহাম্মদ তাহের নঈম ::
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী চিংড়িকে বাংলাদেশে সাদা সোনা বলা হয়। চিংড়ি দেশের অর্থনৈতিকখাতে ব্যাপক অবদান রেখেছে। বাগদা ও গলদা চিংড়ি দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী মূল্যবান প্রজাতি।
খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরার পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ,উখিয়া ও চকরিয়াতে চিংড়ির ব্যাপক চাষ হয়।
টেকনাফ উপজেলার মোট ছয় ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক আকারে চিংড়ি চাষ হয় হোয়াইক্যং ইউনিয়নে।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নাফ নদী সংলগ্ন এলাকায় ঘের তৈরি করে চিংড়ি চাষ করা হয় যুগ যুগ ধরে। চিংড়ি চাষ নির্ভর ব্যবসায়ীদের মতে চিংড়ি বৈধ উপায়ে আনা হলে সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা অনেকাংশে কমে আসবে।
সম্প্রতি মিয়ানমারের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে সময়মতো ঘেরে মাছের পরিচর্যা ও মাছ তুলতে না পারায় বড় ধরনের লোকসানে পড়ছে চাষিরা।
এই পরিস্থিতিতে চিংড়ি ঘেরে যেতে না পারায় চাষিদের আয়-উপার্জন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, হোয়াইক্যং এবং হ্নীলা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের আশপাশে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জায়গাজুড়ে ৪ শতাধিক চিংড়ি ঘের রয়েছে।
তুলনামূলক ভাবে হোয়াইকং ইউনিয়ন চিংড়ি ঘেরের সংখ্যা বেশি। মিয়ানমারের উত্তপ্ত পরিস্থিতি, চিংড়ির মড়ক ও বন্যার কারণে হোয়াইকং এর চিংড়ি চাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় হোয়াইকং ইউনিয়নের ঝিমংখালী, কান্জরপাড়া,উনছিপ্রাং,লম্বাবিল,তেচ্ছী ব্রীজ,হোয়াইকং কুনাপাড়া,তুলাতলী,খারাইংগা ঘোনা ও তুলাতলী’র চিংড়ি ব্যবসায়ীরা জানান,সীমান্তের অতন্দ্রপ্রহরী বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড বিজিবি ও কাস্টমস এর সমন্বয়ে হোয়াইকং সীমান্ত এলাকায় একটি বৈধ করিডর স্থাপন করা হলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। এতে মাদক ও চোরাচালান কমবে বলে ও মতামত জানিয়েছেন এলাকাবাসী । একই সাথে বৈধ উপার্জনের সুযোগ হবে চিংড়ি চাষীদের।
হোয়াইকং এর বিশিষ্ট চিংড়ি ব্যবসায়ী হাজী ফেরদৌস আহমদ জানান, আমাদের হোয়াইক্যং সীমান্তের বেশিরভাগ মানুষ চিংড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত। আমরা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চিংড়ি ঘের করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। আমরা ঘের মালিকরা ও এখন ক্ষতিগ্রস্ত।
লম্বাবিলের চিংড়ি ব্যবসায়ী ফরিদ ও আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মিয়ানমারের চিংড়ি উম্মুক্ত করে দিলে সীমানে মাদক হ্রাস পাবে।
সরকার বৈধ করিডরের মাধ্যমে চিংড়ি আমদানির পথ সুগম করে দিলে সরকারের রাজস্বে কোটি কোটি টাকার আয় হবে।
উনছিপ্রাং এর চিংড়ি ব্যবসায়ী জুনায়েদ,মো ছলিম,আক্তার বলেন,আমরা চিংড়ি ব্যবসা আরো বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। জেলে সম্প্রদায় কে চিংড়ি ব্যবসায় উৎসাহিত করলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হবে। আমরা বৈধ ভাবে চিংড়ি ব্যবসার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সহযোগিতা চাই।
এ ব্যাপারে চিংড়ি ব্যবসায়ীরা উখিয়া টেকনাফের বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন