কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়াস্থ কুতুপালং ১-ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণ ও মানবপাচার চক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলম (৩৮) আত্মগোপনে চলে গেছেন। একাধিক অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত এই ব্যক্তির অপতৎপরতায় ক্যাম্প এলাকায় সাধারণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাঝে মারাত্মক আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় রোহিঙ্গা কমিউনিটির সূত্রে জানা গেছে, ব্লক-ডি-৩ এর বাসিন্দা নুর আলমের ছেলে মোহাম্মদ আলম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপহরণ, প্রতারণা ও মানবপাচারের মতো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। তার এসব হীন অপকর্মের কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কুতুপালং ১-ইস্ট ক্যাম্পের ডি-৩ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোছাইনের ১৭ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে কায়ছারা বিবিকে ফুসলিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায় আলম। ঘটনার দিন ভুক্তভোগীর বাবা জুম্মার নামাজে যাওয়ার সুযোগে মেয়েটিকে ক্যাম্প থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
মেয়েটির বাবা মোহাম্মদ হোছাইন জানান, “বিবাদী আলমের পূর্বেই দুটি স্ত্রী রয়েছে। সে প্রায়ই আমার শিশু মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করতো। বারণ করা সত্ত্বেও ঘটনার দিন কৌশল করে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। চলে যাওয়ার সময় আমার মেয়ের সাথে থাকা চার আনা ওজনের কানের দুল, চার আনা ওজনের আংটি, ১০ জোড়া পোশাক এবং নগদ ৭,০০০ টাকা নিয়ে গেছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর বিবাদীকে মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও সে নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকে। বর্তমানে মেয়ের কোনো হদিস না পেয়ে তিনি কুতুপালং লম্বাশিয়া এপিবিএন (APBn) পুলিশ ক্যাম্পের কমান্ডার অপারেশন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া ক্যাম্পের সিআইসি (CiC), এপিবিএন এবং স্থানীয় হেডমাঝি ও সাবমাঝির কাছেও প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপহরণ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনকে ফাঁকি দিতে তার চলাচলে রয়েছে কৌশলগত রুট। বান্দরবানে তার এক বোন থাকায় সেখানে তার ঘন ঘন যাতায়াত রয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, গর্জনিয়া ফুলতলা এবং ডাত্তইজ্জাকাটা এলাকায় তার নিজস্ব আস্তানা রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত আলম বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার তাদের অপহৃত সন্তানকে দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্ত শীর্ষ অপরাধী আলমকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য এপিবিএনসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।
একই সাথে, কুখ্যাত এই অপহরণকারীকে ধরা বা তার সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মন্তব্য করুন