টেকনাফের হোয়াইক্যং লম্বাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিধি মোতাবেক প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল হাজী মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এলাকার সাধারণ মানুষকে যথাযথভাবে অবহিত না করে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এমনকি ওই কমিটিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার জামাইকে সভাপতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কমিটির কয়েকজন সদস্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিদ্যালয় পরিচালনায় সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, এলাকায় শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তিরা থাকা সত্ত্বেও তাদের পাশ কাটিয়ে অপেক্ষাকৃত অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ও তার জামাই স্থানীয় বাসিন্দাদের অশিক্ষিত ও মূর্খ বলে তাচ্ছিল্য করেন এবং এ কারণেই স্থানীয় শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, নিবেদিতা ভট্টাচার্যের পারিবারিক বাড়ি পটিয়া এলাকায়। তার স্বামী হোয়াইক্যংয়ের আলহাজ্ব আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকার সুবাদে তিনি এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন।
পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রী স্থানীয়ভাবে ভোটার হন এবং নিবেদিতা ভট্টাচার্য লম্বাবিল হাজী মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
বিদ্যালয়টি সরকারি হওয়ার পরও তিনি সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও সম্পদ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সাইক্লোন সেন্টারে থাকা লাইট, বই ও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। যা বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির দৃশ্য সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়।
বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে যে সব বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তা হচ্ছে –
(১)জামাইকে সভাপতি রাখা অধীনে যতবছর স্কুল পরিচালনা করেছে তার সম্পুর্ন আয়-ব্যয় হিসাব প্রকাশ করা।
(২)স্কুলের পরিচালনা কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে হওয়ার কথা থাকলে ও স্বামী স্ত্রী মিলে বাছাই করে এদের অধীনস্থ লোকদের মাধ্যমে স্বামীকে প্রধান করে এলাকার মানুষের অগোচরে কমিটি প্রদান করা।
(৩)স্কুলের প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং সরকারি সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা জন সম্মুখে প্রকাশ করা।
(৪)স্কুলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি অর্থ কোন কোন খাতে ব্যায় করেছে?
কোন সরকারি দিবস বা অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়না উক্ত স্কুলে।
(৫)একটি সরকারী স্কুলে প্রধান শিক্ষক না থাকার কারণ বা রহস্য কি?
(৬)সরকারি স্কুলে সরকারি দপ্তরি না রেখে শিশুদের দিয়ে শিশু শ্রম করিয়ে দপ্তরির নামে আসা অর্থ আত্মসাৎ।
(৭)করোনার সময় সরকারিভাবে আসা গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করার অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হয়?
(৮)স্কুলের প্রতিটি ক্লাস রুমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা না রাখা।
(৯)শিক্ষার্থীদের নিজের বাসা বাড়িতে নিয়ে জোরপুর্বক নিজের বাড়ির কাজ করানো,এমনকি না করলে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া।
(১০)শিশু শ্রেণীতে যথেষ্ট পরিমাণ খেলনার জিনিস বা আসবাবপত্র রাখা।
যদিও প্রতিবছর সরকার ২০/৩০ হাজার টাকা শুধু শিশু শ্রেণির জন্য বরাদ্দ দেয় এই টাকার ব্যবহার কোথায়?
প্রতিবছর সরকারি স্কুলের জন্য কয়েক লক্ষ টাকা সরকারি বরাদ্দ আসে স্কুলের রক্ষানাবেক্ষনের জন্য, উক্ত টাকার ব্যবহার কোথায় করেছে এবং স্কুল ফান্ডে জমাকৃত অর্থের পরিমান কত? এ সব বিষয়ে সদুত্তর নেই।
লম্বাবিলের সাধারণ মানুষ জানায়, আমরা কোনভাবে উগ্র মেজাজের জাতীয়করণ না হওয়া শিক্ষক স্কুলে চাইনা।
আমরা চাই একজন সরকারি পুরুষ প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পুরোনো ও অব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীও গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকার সচেতন মহলের মতে , বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন, কমিটির সদস্যদের যোগ্যতা, আর্থিক লেনদেন, সরকারি সম্পদ ও শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে দ্রুত নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নিয়ে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ২০২৪ সালের মে মাসে ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।
এ বিষয়ে উক্ত শিক্ষিকার সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইলে সংযোগ দেয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন