বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা তিন শিশু: কক্সবাজার পেশকার পাড়ায় চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত প্রবাসী ফারুক; বিচার দাবিতে উত্তাল জনপদ
নিজস্কব সংবাদদাতা: কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়া এলাকায় চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের নির্মম হামলায় গুরুতর আহত প্রবাসী ফারুক (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানী ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে যেমন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনি তিনটি অবুঝ শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে নেমে এসেছে গভীর অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র ওই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। প্রবাসী ফারুকের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর জের ধরে গেল কিছুদিন আগে তার বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ওই হামলায় ব্যাপক ভাঙচুর ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
পরিবারের দাবি, প্রথম হামলার পরও হুমকি-ভীতি অব্যাহত ছিল। একপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে আবারও ফারুককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সর্বশেষ হামলায় গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তরা নিজেদের দায় এড়াতে এলাকায় মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয় এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালায়। পাশাপাশি গোপনে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ফারুকের মৃত্যুর পর সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে তার তিন শিশু সন্তান। বাবার স্নেহ-ছায়া হারিয়ে তারা আজ দিশেহারা। স্বজনদের চোখে মুখে এখন শুধু শোক আর অনিশ্চয়তার ছাপ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে পরিবারের সদস্যরা বলেন, “আমরা আমাদের আপনজনকে হারিয়েছি, কিন্তু তার শিশু সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার চাই।
এদিকে এলাকাবাসী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
ঘটনাটি ইতোমধ্যে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, সচেতন মহল মনে করছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন